জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের একটি কক্ষে মাদক উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষার্থী সানজিদা আমীর ইনিসীকে ‘প্রধান অভিযুক্ত’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, শুরু থেকেই তিনি দাবি করে আসছেন—এই ঘটনায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে।
গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে অভিযান চালানো হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ইনিসী। তবে সংশ্লিষ্ট কক্ষটি তার নয়; এটি অন্য এক শিক্ষার্থীর বরাদ্দকৃত। ইনিসীর দাবি, তিনি কেবল অসুস্থতার কারণে সাময়িকভাবে সেখানে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “আমি মাত্র ৩০–৩৫ মিনিট সেখানে ছিলাম এবং পরে স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে আসি। আমার কাছে কোনো মাদক ছিল না। এরপর আমার অনুপস্থিতিতে কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে যা পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
ঘটনার পরপরই কিছু গণমাধ্যমে তাকে ‘মাদকসহ আটক’ বা ‘মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক’ হিসেবে প্রচার করা হয়—যা ইনিসীর মতে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ, ভিডিও বা ছবি না থাকা সত্ত্বেও আমাকে প্রধান অভিযুক্ত বানানো হয়েছে। এটি স্পষ্টতই একটি মিডিয়া ট্রায়াল।”
শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তার মতে, এটি তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সাইবার বুলিং, যা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ইনিসীর পক্ষে কথা বলেছেন বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাতিমা তুজ জহুরা। তিনি জানান, “ইনিসী কোনো মাদক সেবন করছিল না। সে শুধু সিগারেট খাচ্ছিল এবং অসুস্থ থাকায় তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।”
ঘটনাটির তদন্তে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজের নির্দোষিতা দাবি করে ইনিসী বলেন, “আমি চাই সঠিক তদন্ত হোক এবং সত্য প্রকাশ পাক। আমাকে যেভাবে ফাঁসানো হয়েছে, তার বিচার হওয়া উচিত।”

আপনার মতামত লিখুন :