ঢাকা সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

সরকারি মিটফোর্ড হাসপাতালে অনিয়মের শেষ কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৪

সরকারি মিটফোর্ড হাসপাতালে অনিয়মের শেষ কোথায়?

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড হাসপাতাল) কোনরকম রশিদ ছাড়াই রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, হাসপাতালটির নাক, কান ও গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. ডিজিএম আকাইদুজ্জামানের সম্মতিতে তার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ক এবং উ অধ্যাক্ষরের দুই ডাক্তারের মাধ্যমে এই টাকা নেওয়া হয়। প্রাপ্ত অর্থের সম্পূর্ণটাই যায় বিভাগীয় প্রধানের পকেটে৷ এভাবে গত তিন বছরে প্রায় তিন কোটি সরকারি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রফেসর ডা. ডিজিএম আকাইদুজ্জামান।

উক্ত বিভাগে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় চিকিৎসার জন্য আগত রোগীদের গলার জন্য (FOL), নাকের জন্য (naso endoscopy) ও কানের জন্য (oto endoscopy) পরীক্ষা করতে বলা হয়। রোগীরা পরীক্ষার জন্য গেলে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে ৫০০ টাকা করে নেন অথচ টাকা নিয়েছেন এমন কোন রশিদ রোগী পান না।

চিকিৎসা নিতে চাঁদপুর থেকে আসা ফাতেমা বেগমের গলার পরীক্ষা বাবদ পাঁচশত টাকা নিলেও তাকে কোন রশিদ দেওয়া হয়নি। রশিদের কথা ফাতেমা বেগমকে জিগ্যেস করলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, বাবা থাক, রশিদ দিয়ে কি হবে৷ এমনিতেই ওনারা পরীক্ষা করাতে গেলে অনেক খারাপ ব্যবহার করেন৷ এখন আবার রশিদ চাইলে আরও খারাপ আচরণ করতে পারে।

অথচ সরকারি কোন হাসপাতালে রশিদ ছাড়া টাকা লেনদেনের কোন নিয়ম নাই। রশিদের মাধ্যমেই যে টাকা সংগ্রহ করার কোন সুযোগ নেই।

উক্ত বিভাগের এক নবীন ডাক্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান, বিভাগীয় প্রধানের সম্মতিতে রশিদ ছাড়া টাকা নেওয়ার এই অনিয়মটি চলছে বিগত তিন বছর ধরে। দৈনিক ৬-৭ হাজার টাকার পরীক্ষা হলেও মাস শেষে যার পরিমাণ অনেক টাকা হয়ে যায়।

হাসপাতালের বহিঃ বিভাগে আগত রোগীদের নিজের ব্যক্তিগত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার অভিযোগও রয়েছে উক্ত বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. হাসানের বিরুদ্ধে। ডাঃ হাসানের ওই হাসপাতালের নাম ম্যাক্স হাসপাতাল। বহিঃ বিভাগ থেকে ডা. হাসান রোগীদের ম্যাক্স হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দেন, এবং পরবর্তীতে তিনি সেই রোগীর চিকিৎসা করেন।

যদিও ডা. হাসানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা চলমান রয়েছে। তিন মাস আগে ম্যাডিপ্যাথ হাসপাতালে তার অধীনে রোগী মারা যাওয়ায় রোগীর পরিবার ডা. হাসান সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নামে হত্যা মামলা দেয়। যে মামলা এখনও চলমান। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিরত কোন ডাক্তারের নামে মামলা চলমান থাকলে তিনি সরকারকে বিষয়টি অবহিত করবেন এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাসপেন্ড থাকবেন৷ অথচ তিনি মিয়মিত তার দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য ডা. হাসানকে কল করা হলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এই বিষয়ে কথা বলতে নাক, কান ও গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. ডিজিএম আকাইদুজ্জামানকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি৷
 

বার্তাজগৎ২৪

Link copied!