আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। উচ্চবিত্তদের জন্য `সম্পদ কর` প্রবর্তন এবং মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
বাজেট পরিকল্পনায় সাধারণ করদাতাদের জন্য সুখবর রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কমাতে করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমানের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক ছাড়ের সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাবেও প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।
পরিবহন খাতে করের আওতা বাড়াতে মোটরসাইকেলের সিসি অনুযায়ী বার্ষিক কর নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১১১-১২৫ সিসি: ১,০০০ টাকা। ১২৬-১৬৫ সিসি: ৩,০০০ টাকা। ১৬৫ সিসির বেশি: ৫,০০০ টাকা। বিলাসবহুল গাড়ি (৩,৫০০ সিসির বেশি): অগ্রিম আয়কর ২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ১,৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির বিদ্যমান ২৫ হাজার টাকার কর অপরিবর্তিত থাকবে।
আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পেশ করা হতে পারে। এটি চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সরাসরি করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানো এবং উচ্চবিত্তদের কঠোর নজরদারিতে আনা।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে, রাজস্ব বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে তামাকজাত পণ্য এবং বিদেশি মদের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, আর্থিক নীতি যেন অবশ্যই পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নকে সহায়তা করে।

আপনার মতামত লিখুন :