ঢাকা সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

ছাত্ররাজনীতি : পক্ষে-বিপক্ষের প্রশ্নে তিন ভাগে বিভক্ত বুয়েট

শেখ মামুন

প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৪

ছাত্ররাজনীতি : পক্ষে-বিপক্ষের প্রশ্নে তিন ভাগে বিভক্ত বুয়েট

ফাইল ফটো

শিবির সন্দেহে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর দেশব্যাপী ছাত্র রাজনীতি বন্ধের  দাবি তুলেছিল বুয়েট শিক্ষার্থীদের একাংশ। বুয়েটের উপাচার্য গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ছাত্র-শিক্ষকদের যৌথসভায় বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের কথা ঘোষণাও দিয়েছিলেন। 

ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পর সাড়ে চার বছরে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে ও কিছুটা গোপনে নিজেদের সংগঠিত করেছে। বুয়েটের দেওয়ালে দেওয়ালে কিছু QR code দেখা যায়, যেগুলো স্ক্যান করলে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। ৩০ জুলাই ২০২৩ সালে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে এসে হাউজবোটে অবস্থান করে সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২৪ জনসহ মোট ৩৪ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বুয়েট শিক্ষার্থী আফিফ আনোয়ার, বখতিয়ার নাফিস, মো. সাইখ, ইসমাইল ইবনে আজাদ, সাব্বির আহম্মেদ, তাজিমুর রাফি, মো. সাদ আদনান, মো. শামীম আল রাজি, মো. আবদুলাহ আল মুকিত, মো. জায়িম সরকার, হাইছাম বিন মাহবুব, মাহমুদুর হাসান, খালিদ আম্মার, মো. ফাহাদুল ইসলাম, তানভির আরাফাত, এ টি এম আবরার মুহতাদী, মো. ফয়সাল হাবিব, আনোয়ারুল্লাহ সিদ্দিকী, আলী আম্মার মৌয়াজ, মো. রাশেদ রায়হান, সাকিব শাহরিয়ার, ফায়েজ উস সোয়াইব, আবদুর রাফি ও মাঈন উদ্দিন।

গত ২৮ মার্চ ২০২৪ রাত ২টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি হুসাইন সাদ্দাম ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীদের নিয়ে বুয়েটের প্রধান ফটকে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ খবর সাথে সাথে বুয়েটের মধ্যে ছড়িয়ে পরে। এঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে থাকা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করে। শিক্ষার্থীরা জানান, বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা নিষিদ্ধ। কমিটি দেওয়া ছাড়াও ক্যাম্পাসে শোডাউন, রাজনৈতিক সংগঠনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ যেখানে বুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য নিষিদ্ধ সেখানে ৩টায় একটা রাজনৈতিক সংগঠনের নেতার দলেবলে প্রোগ্রাম করা অবশ্যই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা এবং সাংগঠনিক রাজনীতির প্রভাবে ঘটা ঘটনা। প্রতিবাদে সকাল থেকেই আন্দোলনে নামে বুয়েট শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছয় দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

অপরপক্ষে ছাত্রলীগ ৩১ মার্চ প্রতিবাদ সমাবেশ করে বুয়েটের ছাত্র রাজনীতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম বলেন, বুয়েটের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক, ছাত্র রাজনীতি চালু করতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ‘অসাংবিধানিক। অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি চালু করতে হবে। বুয়েটের সিদ্ধান্ত অন্যায্য, অসাংবিধানিক এবং নাগরিক অধিকার বিরোধী। বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধের এই নাটক বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, বুয়েট যে নিয়ম চালু করেছে, তা কালাকানুন।অনতিবিলম্বে বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি চালু করতে হবে। ইমতিয়াজ রাব্বির সিট ফিরিয়ে তাকে হলে বরণ করে নিতে হবে। অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। দাবি মানা না হলে ছাত্রলীগ জানে, কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়। 

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার দাবি মানা ঠিক হবে না। নেতা ছাড়া, নেতৃত্ব ছাড়া কোনও কিছুই চলে না। জাতির সুখের সময়ও নেতার প্রয়োজন, দুঃখের সময়ও নেতার প্রয়োজন। সুতরাং ছাত্র রাজনীতির সামান্য বিভ্রান্তিতে হতাশ হয়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার কথা চিন্তা করা যাবে না। ছাত্র রাজনীতির প্রক্রিয়াঅব্যাহত রাখতে হবে। ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে নেতৃত্ব হয় না। নেতৃত্ব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। নেতৃত্ব ছাড়া একটা জাতি অচল হয়ে যাবে। কারণ রাজনীতি এবংনরাজনীতিবিদরাই অর্থনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতি—সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

Link copied!