যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সংসদ অধিবেশন পুনরায় শুরু হওয়ার আগেই দেশটির নতুন নেতা নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে বিগত ১০ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্য তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।
স্টারমারের এই আকস্মিক বিদায়ের পর দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি এখন শুরু হতে যাচ্ছে। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হতে ইচ্ছুক যেকোনো প্রার্থীকে প্রথমে দলের সংসদ সদস্যদের অন্তত ২০ শতাংশের সমর্থন লাভ করতে হবে। বর্তমানে সংসদে লেবার পার্টির ৪০৩টি আসন রয়েছে। সেই হিসাবে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ অন্তত ৮১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন হবে। এছাড়া প্রার্থীদের লেবার পার্টির তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠন এবং দলের সাথে যুক্ত সহযোগী সংস্থা, যেমন ট্রেড ইউনিয়ন (শ্রমিক সংগঠন) গুলোর নির্দিষ্ট পরিমাণ সমর্থন পেতে হবে।
যদি একাধিক প্রার্থী এই প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেন, তাহলে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণে একটি অভ্যন্তরীণ ভোট প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোটে লেবার পার্টির সাধারণ সদস্য এবং সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সরাসরি অংশ নেবেন। নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তিই পরবর্তীতে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে যদি কেবল একজন প্রার্থীই প্রয়োজনীয় সমর্থন পান, তবে কোনো ভোট ছাড়াই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।
দলটির পরিচালনা পর্ষদ এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি চূড়ান্ত করবে। তবে স্টারমার জানিয়েছেন, আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শুরু হবে এবং ১৬ জুলাই সংসদের অধিবেশন অবকাশে (সাময়িক বিরতি) যাওয়ার আগেই তা শেষ হবে। যদি চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার প্রয়োজন হয়, তবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর সংসদের অধিবেশন পুনরায় চালু হওয়ার আগেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :