ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৌদিতে অসংখ্য প্রবাসীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দেশে চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজমুল

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

সৌদিতে অসংখ্য প্রবাসীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দেশে চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজমুল

ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে, আপনজনদের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়ে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রক্ত পানি করা পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন প্রবাসী অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে যখন তার উপার্জিত প্রাপ্য অর্থ,তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় না, তখন মানুষের কাছে বিচার চাওয়ার পাশাপাশি, সেই অসহায় মানুষটির আর্তনাদ যেন পৌঁছে যায় সৃষ্টিকর্তার দরবারেও।সৌদি আরবের মক্কায় যেয়ে এমনই এক আবেগঘন প্রার্থনার কথা, সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টে জানিয়েছেন সৌদি প্রবাসী মোঃ আলামিন ইসলাম।

আলামিন ইসলাম তার পোস্টে লিখেছেন "পবিত্র মক্কায় গিয়ে বিচার দিয়ে আসছি আল্লাহর কাছে, ওর মতো ----যেন মঠ বাড়িয়ার জনপ্রতিনিধি না হয়। হাজারো প্রবাসীর রৌদ্রে পোড়া রিয়াল মাইরা খেয়ে দিচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে ভালো ভালো কথা বইলা মানুষকে সৌদি এনে আকামা দেয় না, কাজ দেয় না, এসব কিছু চাইলে মানুষকে মারে, আবার মানুষের পাসপোর্ট নিয়ে যায়,,, এই নাজমুল"  ইত্যাদি ইত্যাদি। পোস্টে তিনি আরো উল্লেখ করেন তাদের দশটা লোকের এয়ারপোর্টে কাজের কথা বলে ৪৫ লক্ষ টাকা  নিয়েছে কিন্তু সঠিক কাজ দেয়নি। কষ্ট, রাগ, ক্ষোভে আলামিন ইসলাম তার পোস্টে অসংখ্যবার গালমন্দ করেন এবং বিরূপ মন্তব্য করেন।

শুধু আলামিন ইসলাম নয় সোহাগ হাসান, মাইনুল ইসলাম, মোঃ সাজ্জাদ, হোসেন ইসলামসহ সৌদি প্রবাসী আরো অসংখ্য মানুষের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে যার বিরুদ্ধে তিনিও একজন সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী, যিনি বরিশালের মঠবাড়িয়া উপজেলার ৩ নং মীরুখালী ইউনিয়নের সোহরাব পুত্র নাজমুল ইসলাম।

সূত্রমতে জানা যায় সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থানকারী নাজমুল ইসলাম, তাওয়াজোন নামে একটি সাপ্লাই কোম্পানির মালিক। সাপ্লাই কোম্পানির মালিক হওয়ার সুবাদে, নাজমুল সৌদির বিভিন্ন কোম্পানিতে জনবল সরবরাহের কাজ নিয়ে থাকেন বলে জানা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৯-২০ সালে সেপকো আরাবিয়া নামক একটি চায়না কোম্পানিতে জনবল সরবরাহের কাজ করে থাকে নাজমুলের কোম্পানি তাওয়াজোন। সেই সময়ে নাজমুলের সাথে কাজ করা বেশ কিছু প্রবাসীকে কাজ করিয়ে প্রাপ্য অর্থ যথাযথভাবে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

তেমনি একজন অভিযোগকারী মাইনুল ইসলাম। মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান সৌদি আরবের জিজান শহরে নাজমুলের কোম্পানিতে কয়েক মাস কাজ করলেও নাজমুল তাকে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক প্রায় চার লক্ষ টাকা বুঝিয়ে দেননি। নাজমুলের কোম্পানির কাছে প্রাপ্য টাকার হিসাবের টাইম সিট প্রতিবেদকের কাছে পাঠিয়ে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন চায়না কোম্পানি থেকে সকল অর্থ যথাযথভাবে বুঝে নিলেও তার অর্থ পরিশোধ করেন নি নাজমুল।সে সহ আরো অনেকের অর্থ পরিশোধ না করার কথা জানান তিনি।সেই ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে শুধু মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে চলেছেন।

অপরদিকে আর এক ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী হুসাইন ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান নাজমুলের কাছে এক মাস ১৬ দিনের কাজ বাবদ তিনি প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পাবেন। যেখানে ১৬ দিনের টাইম সিট তাকে দেওয়া হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। হুসাইন ইসলাম আরো জানান তার আপন বোন জামাই কাজের সুবাদে নাজমুল এর কাছে প্রায় পাঁচ হাজার রিয়াল পাবেন। ভুক্তভোগী হুসাইন ইসলামের বোন জামাই এই পরিচয় জানার পর নাজমুল তাকে ক্যাম্প থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করেন হুসাইন।এভাবে এতিমের টাকা সহ আরও অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে, বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে নেওয়ার কথাও, মুঠোফোনে প্রতিবেদক কে জানান হোসাইন ইসলাম। তাকে হুমকি দেওয়ার কারণে ও তার সাথে প্রতারণা করার কারণে তিনি দেশে এসে নাজমুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান। নাজমুল এর কাছে টাকা পাওয়ার বিষয়টি, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেককেই বাজে মন্তব্য করে উল্লেখ করতে দেখা যায়।

এ সকল বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে নাজমুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান মাইনুল ইসলাম করোনাকালীন সময়ে তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, সে সময় টাইম সিট খোয়া যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মাইনুল ইসলাম যে টাকা পাবেন সেটি স্বীকার করেন, অপরদিকে হুসাইন ইসলামের টাকা তার মামার কাছে দিয়ে দেওয়ার কথা বলেন প্রতিবেদককে। তিনি আরো বলেন ওরা টাকা পেলে অফিসে যেয়ে নিয়ে আসবে। করোনাকালীন সময়ের টাকা এত বছরেও না দেওয়ার বিষয়ে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় সাম্প্রতিক সময়ে নাজমুল ৩নং মিরুখালি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সকলের দোয়া কামনা করছেন। অসংখ্য প্রবাসীর চোখের পানি মেশানো টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ যার বিরুদ্ধে সেই মানুষ জনগণের সেবক কি করে হতে পারে এ বিষয়টি নিয়ে বিস্ময়কর কৌতুহল জাগানিয়া প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীসহ সাধারণ মানুষ।একই সাথে সাধারণ নিরীহ প্রবাসীদেরকে তাদের কষ্টার্জিত প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নাজমুলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা।

নাজমুলের মতো এ ধরনের  প্রতারণামূলক ঘটনা যদি ঘটতে থাকে সেক্ষেত্রে প্রবাসীদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।যার ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ, এমনকি দেশের রেমিটেন্স খাতেও বিরুপ প্রভাব পড়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্ট সকলের।

বার্তাজগৎ২৪

Link copied!