আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেশ কিছুদিন ডিএমপির ডিবিতে অবস্থান করার পর ভোল পাল্টে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ পদে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার সাবেক সাহেব অফিসার ইনচার্জ জনাব কামরুল ইসলাম। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ডিআইজি আবদুল বাতেনের ঘনিষ্ঠ ও ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার এমন বদলি জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বদলি-নিয়োগে অর্থের লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সেই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছেন কামরুল ইসলাম। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ডিআইজি আবদুল বাতেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামরুল ইসলামকে বাতেনের ‘ক্যাশিয়ার’ বলে অভিহিত করা হয়। বাতেনের আমলে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের অর্থ লেনদেন ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে, গোদাগাড়ী থানা থেকে মুক্তাগাছা থানায় বদলির জন্য কামরুল ইসলামকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে। এই বদলিকে অনেকেই ‘কেনা-বেচা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানা একটি গুরুত্বপূর্ণ থানা হওয়ায় এখানে ওসি পদটি লোভনীয়। এই পদটি পেতে পিছনে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— সরকার পরিবর্তনের পরও কেন ডিআইজি বাতেনের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত একজন কর্মকর্তা এভাবে সুবিধা পাচ্ছেন? বাতেনের আমলের দুর্নীতির নেটওয়ার্ক এখনও কি সক্রিয়?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাতেনের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন নতুন পদে যোগ দিয়ে তিনি আবারও একই ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ।
এ বিষয়ে কামরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। তবে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “টাকা ছাড়া এমন বদলি সম্ভব নয়। বাতেনের লোক বলে কামরুল এখনও সুবিধা পাচ্ছেন।”
ডিআইজি আবদুল বাতেনের আমলের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অর্থ কেলেঙ্কারির তদন্ত চলমান রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর ঘনিষ্ঠ কামরুল ইসলামের এই বদলি নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ। কামরুল ইসলামের অবৈধ সম্পদ ও বদলির পেছনের অর্থ লেনদেনের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী প্রতিবেদনে।

আপনার মতামত লিখুন :