ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

সরকারি চাকরিতে থেকেও দলীয় রাজনীতি, ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬

সরকারি চাকরিতে থেকেও দলীয় রাজনীতি, ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ!

সরকারি চাকরিতে থেকে সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়া, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মচারী রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে, দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন না। তবে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মনিরুজ্জামান প্রকাশ্যে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর সমর্থনে ডেমরা, ধীৎপুর ও খলাপাড়া এলাকায় নির্বাচনি প্রচারে তাকে দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন সভা-মিছিলেও তিনি অংশ নিতেন বলে অভিযোগ।

আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন ভুক্তভোগীর ভাষ্য, সাধারণ নামজারির প্রস্তাব পাঠাতে দেড় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। টাকা না দিলে ফাইল আটকে দেওয়া বা নামঞ্জুর করার অভিযোগও করেছেন তারা।

অভিযোগকারীদের দাবি, জমি আংশিক ‘ক’ তালিকাভুক্ত, ‘খ’ তালিকাভুক্ত, কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীন কিংবা অধিগ্রহণ-সংশ্লিষ্ট হলে ঘুষের অঙ্ক কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত উঠত। জমির পরিমাণ ও জটিলতা অনুযায়ী এই অঙ্ক বাড়ানো হতো বলেও অভিযোগ।

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকৃত করের তুলনায় কম টাকার রসিদ দিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে রাজস্ব ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মিসকেসের জোতের প্রতিবেদন ও আদেশ তামিলের ক্ষেত্রেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। তাদের ভাষ্য, প্রতি ফাইলে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হতো।

এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন রাজস্ব সার্কেলে নামজারির কাজ এবং বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।

এসব বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি। খুদে বার্তারও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, আর্থিক লেনদেন, সরকারি রাজস্ব ক্ষতি এবং সম্পদের উৎস তদন্তে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান দাবি করেছেন।

বার্তাজগৎ২৪ নিজস্ব প্রতিবেদক

Link copied!