ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

ভারতকে যা দিয়েছি কখনো ভুলতে পারবে না: বঙ্গোপসাগরের গ্যাস কি তবে দিল্লির হাতে তুলে দিয়েছিল হাসিনা?

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬

ভারতকে যা দিয়েছি কখনো ভুলতে পারবে না: বঙ্গোপসাগরের গ্যাস কি তবে দিল্লির হাতে তুলে দিয়েছিল হাসিনা?

‘আমি ভারতকে যা দিয়েছি, তারা তা কখনো ভুলতে পারবে না।’ বিগত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন আগে, তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার এই দম্ভোক্তিটি তখন দেশের সচেতন মহলকে গভীরভাবে তাড়িত করেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, একজন স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এমন ভাষায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি নিজের একতরফা আনুগত্য ও উজাড় করে দেওয়ার খতিয়ান তুলে ধরেন? দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর, এই প্রশ্নটি আজ কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক হয়ে সামনে এসেছে। জনমনে আজ তীব্র জিজ্ঞাসা— হাসিনা আসলে ভারতকে কী দিয়েছিলেন? পর্দার আড়ালে কি বাংলাদেশের সীমানায় বঙ্গোপসাগরের তলদেশের এক বিশাল ও অতিমূল্যবান প্রাকৃতিক গ্যাসভাণ্ডার ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল?

আজ সবার অলক্ষ্যে, বঙ্গোপসাগরের নীল পানির হাজার হাজার ফুট গভীরে এক অবিশ্বাস্য আন্তর্জাতিক ডাকাতির চিত্র উন্মোচিত হচ্ছে। এক ফোঁটা রক্তপাত না ঘটিয়ে, কোনো কামানের গোলা না ছুড়ে, সম্পূর্ণ নীরব উপায়ে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টাকার সম্পদ—আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস। আর এই বৈজ্ঞানিক চুরির গোপন নকশা ও ভূ-রাজনৈতিক ছকটি এত বছর পর ফাঁস করে দিয়েছে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি চীন। বিগত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকারের প্রকাশ্য এবং গোপন প্রশ্রয়ে যে জাতীয় সম্পদ প্রতিবেশী দেশ নিজের ঘরের দিকে টেনে নিয়ে গেছে, সেই ‍‍`গ্যাস চুরির‍‍` চাঞ্চল্যকর তথ্যটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মূলত, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এই সমুদ্রগর্ভের জ্বালানি যুদ্ধ এক নতুন ও দীর্ঘমেয়াদী সমীকরণ তৈরি করছে।

বিজ্ঞানের আড়ালে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির কৌশল: ‘স্ল্যান্ট ড্রিলিং’

বিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যার একটি চিরন্তন সূত্র হলো—তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ সবসময় উচ্চ চাপ (High Pressure) থেকে নিম্ন চাপের (Low Pressure) দিকে ধাবিত হয়। এই সহজ কিন্তু অমোঘ প্রাকৃতিক নিয়মকে কাজে লাগিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমানার কাছে এক বিশেষ কৌশল ব্যবহার করেছে দিল্লি। ভারত তার নিজস্ব সীমান্তে সরাসরি নিচ অভিমুখে মাটি না খুঁড়ে, বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘স্ল্যান্ট ড্রিলিং’ (Slant Drilling) বা বাঁকা পদ্ধতিতে কোনাকুনিভাবে বাংলাদেশের গ্যাসভাণ্ডারে পাইপ ঢুকিয়ে দিয়েছে।

সেখান থেকে সজোরে ও বিপুল পরিমাণে গ্যাস বের করে নেওয়ার ফলে বাংলাদেশের মাটির নিচের গ্যাসক্ষেত্রে একটি কৃত্রিম নিম্ন চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে প্রাকৃতিক নিয়মেই বাংলাদেশের অন্য প্রান্তের খনিজ গ্যাস ভারতের ওই পাইপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অতিমূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদটি ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের হলেও, চৌকস ও অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে এর পুরোটাই শুষে নিচ্ছে ভারত।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই কৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একেবারে নতুন কিছু নয়। ১৯৯০ সালে যখন সাদ্দাম হোসেনের ইরাক কুয়েত আক্রমণ করেছিল, তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই স্ল্যান্ট ড্রিলিং। ইরাক তখন আন্তর্জাতিক ফোরামে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিল যে, কুয়েত আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন করে মাটির নিচ দিয়ে বাঁকা পাইপ ঢুকিয়ে ইরাকের বিখ্যাত ‘রুমায়লা অয়েল ফিল্ড’ থেকে তেল চুরি করছে। এই তেল চুরিকে কেন্দ্র করেই মধ্যপ্রাচ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। কুয়েত-ইরাক সীমান্ত যা ঘটেছিল মরুভূমির বালুকাভূমিতে, আজ ঠিক একই পথ অবলম্বন করে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে বাংলাদেশের গ্যাস টেনে নিচ্ছে ভারত।

সমুদ্র জয়ের ট্র্যাজেডি: ওএনজিসি ও দিল্লির সুদূরপ্রসারী নকশা

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, চোখের সামনে দেশের এত বড় চুরির ঘটনা ঘটলেও কেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র এতদিন ধরে নিস্পৃহ ও নিষ্ক্রিয় বসে ছিল? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে শেখ হাসিনার বিগত শাসনামলের ইতিহাসের দিকে। ২০১২ সালে সমুদ্র আদালতের (ITLOS) ঐতিহাসিক রায়ে বাংলাদেশ যখন বিশাল সমুদ্রসীমা লাভ করেছিল, তখন সারা দেশের মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল। সাধারণ মানুষ ভাবছিল, ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির হাত ধরে বাংলাদেশের ভাগ্য এবার বদলে যাবে। কিন্তু পর্দার আড়ালে দিল্লির প্রেসক্রিপশনে চিত্রনাট্য লেখা হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে।

সমুদ্র জয়ের পরপরই বঙ্গোপসাগরের অগভীর ও গভীর ব্লকে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মেলে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের তোয়াক্কা না করে, কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই, শেখ হাসিনা সরকার সেই ব্লকগুলোর দায়িত্ব তুলে দেয় ভারতের দুটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—ওএনজিসি (ONGC) এবং অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের (Oil India Limited) হাতে।

এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়। বিশ্ববাজারে যখন গ্যাসের জন্য হাহাকার, তখনো ভারতের এই কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের ব্লকগুলো থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেনি। তারা বছরের পর বছর ফাইল আটকে রেখে, বিনিয়োগের অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছে এবং পুরো অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় ও অচল করে রেখেছে।

রাজনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো সাধারণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছিল না। এটি ছিল দিল্লির একটি সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক কৌশল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের ব্লকগুলোকে পুরোপুরি অচল ও বন্ধ রাখা, যেন বাংলাদেশ কোনোভাবেই নিজের সমুদ্রসীমা থেকে গ্যাস তুলতে না পারে। আর এই দীর্ঘ সময়ের সুযোগে ভারত নিজেদের ব্লকে (যেমন কৃষ্ণ-গোদাবরী অববাহিকা ও সংলগ্ন অঞ্চল) দিন-রাত শত শত বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করে গেছে। ফলে, মাটির নিচের ভূগর্ভস্থ আন্তঃসংযোগের কারণে বাংলাদেশের রিজার্ভ গ্যাস ধীরে ধীরে ভারতের সীমান্তের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকার নিজের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং দিল্লির একচেটিয়া রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখতে এই চরম জাতীয় স্বার্থবিরোধী অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করার সাহস পায়নি। দেশের সার্বভৌম স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে এভাবে ‘ফ্রি লুট’ বা অবাধে চুরির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল, যার চরম মাশুল আজ দেশের জনগণকে দিতে হচ্ছে।

কৃত্রিম সংকট, এলএনজি সিন্ডিকেট ও ধসে পড়া অর্থনীতি

সমুদ্রতলদেশের এই মহাচুরির প্রত্যক্ষ ও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। দেশের নিজস্ব অফশোর (Offshore) খনিজ সম্পদ যখন প্রতিবেশী দেশ চতুরতার সাথে লুটে নিচ্ছিল, তখন দেশের অভ্যন্তরে দেখা দেয় তীব্র গ্যাস সংকট। আর এই কৃত্রিম সংকটকে পুঁজি করে বিগত হাসিনা সরকার দেশকে ঠেলে দিয়েছিল এক আত্মঘাতী বিপদের মুখে।

নিজেদের সমুদ্রের গ্যাস ভারতের জন্য উন্মুক্ত রেখে, দেশের চাহিদা মেটাতে বিশ্ববাজার থেকে চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) কেনা শুরু করে তৎকালীন সরকার। প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও মূল্যবান ডলার কেবল এই এলএনজি কিনতেই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে, যা মূলত পরিচালিত হতো ভারতের আদানি গ্রুপ কিংবা দেশের ভেতরের সুনির্দিষ্ট ভারতীয় তোষামোদকারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে দেশে বড় বড় শিল্প অঞ্চল গড়ে তোলা যেত, বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণ করা যেত, কিংবা বিদ্যুৎ খাতের স্থায়ী সমাধান করা যেত—তার সিংহভাগই গিলে খেয়েছে এই আমদানিকৃত এলএনজি ও জ্বালানি খাতের কালো সিন্ডিকেট। এর ফলে আজ দেশের প্রতিটি মানুষ তীব্র লোডশেডিংয়ের শিকার। বাংলাদেশের গর্বের তৈরি পোশাক শিল্প (RMG) আজ ধ্বংসের মুখে, কারণ কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ (PSI) নেই। গ্যাসের তীব্র সংকটে উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, নতুন কোনো শিল্প-কারখানায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বেইজিং-ঢাকা নতুন সমীকরণ

তবে কথায় আছে, "পাপ কখনো চাপা থাকে না।" ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পটভূমি আমূল পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ঢাকার মসনদে আজ আর দিল্লির পুতুল সরকার নেই; বরং শাসন ক্ষমতায় এসেছে সম্পূর্ণ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী তারেক রহমানের সরকার। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েই স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে—বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও যেমন কারো কাছে ছেড়ে দেওয়া হবে না, ঠিক তেমনি সমুদ্রের তলদেশের এক ফোঁটা সম্পদও অন্য কোনো দেশকে অবৈধভাবে ভোগ করতে দেওয়া হবেে না।

আর ঠিক এই সন্ধিক্ষণে, বিগত ১৭ বছর ধরে চলে আসা ভারতীয় চুরির গোমর ফাঁস করে দিয়ে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বন্ধুরাষ্ট্র চীন। 

কূটনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সূত্রমতে, বেইজিং তাদের অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং ‘সাব-সারফেস ট্র্যাকিং সিস্টেম’-এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের নিচে ভারতের এই স্ল্যান্ট ড্রিলিংয়ের সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ বাংলাদেশের নতুন সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। চীন শুধু চুরির প্রমাণই দেয়নি, এই দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট থেকে চিরতরে পরিত্রাণের জন্য এক যুগান্তকারী ও অবিশ্বাস্য অফার দ্বিপাক্ষিক টেবিলে এনেছে।

পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর দীর্ঘসূত্রতা এবং দিল্লির তথাকথিত ‘দাদাগিরি’ ও মনোপলিকে সম্পূর্ণ তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশের নতুন সরকার এখন চীনের সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত জ্বালানি চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে গভীর সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধান, অফশোর ড্রিলিং এবং খনিজ সম্পদ উত্তোলনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকরী প্রযুক্তি রয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন CNOOC) হাতে। তারা অত্যন্ত কম সময়ে এবং সাশ্রয়ী খরচে গভীর সমুদ্রের প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশাল অবকাঠামো তৈরি করতে সক্ষম।

দিল্লির উদ্বেগ ও ভূ-রাজনীতির নতুন মোড়

এই চাঞ্চল্যকর সংবাদ ও চুক্তির খসড়া দিল্লিতে পৌঁছানো মাত্রই ভারতের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও রাতের ঘুম হারাম হওয়ার উপক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ, এতদিন যে বঙ্গোপসাগরকে তারা নিজেদের একচেটিয়া প্রভাব বলয় এবং ‍‍`ফ্রি লুটের‍‍` ক্ষেত্র মনে করেছিল, সেখানে এখন বাংলাদেশের সার্বভৌম আমন্ত্রণে সরাসরি বেইজিংয়ের কারিগরি ও কৌশলগত হস্তক্ষেপ ঘটছে।

যদি চীনের এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ তার নিজস্ব ব্লকগুলো থেকে পূর্ণ শক্তিতে গ্যাস উত্তোলন শুরু করে, তবে সমুদ্রের নিচের "বিজ্ঞান ও চাপের চিত্র" নিমিষেই বদলে যাবে। সীমান্তের ওপার থেকে ভারত যে কৃত্রিম নিম্ন চাপ (Lower Pressure Zone) তৈরি করে এতদিন ধরে বাংলাদেশের গ্যাস টেনে নিয়েছিল, তা আর কাজ করবে না; বরং বাংলাদেশ তার নিজের সম্পদ নিজেই আহরণ করে জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জন করবে।

পরিশেষে বলা যায়, শেখ হাসিনার সেই কুখ্যাত উক্তি—"ভারতকে যা দিয়েছি তা কখনো ভুলতে পারবে না"—আজ বাংলাদেশের জনগণের সামনে এক নির্মম সত্য হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক সৌজন্য ছিল না, এটি ছিল দেশের ফুসফুস, দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড তথা বঙ্গোপসাগরের বিপুল গ্যাসভাণ্ডারকে প্রতিবেশীর পায়ে সঁপে দেওয়ার এক চরম দেশবিরোধী চক্রান্ত। তবে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, বাংলাদেশ আজ নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ। চীনকে সাথে নিয়ে গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশের এই নতুন যাত্রা কেবল ভারতের অবৈধ লুণ্ঠনকেই প্রতিহত করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও জ্বালানি মানচিত্রকে চিরতরে বদলে দিয়ে একটি আত্মমর্যাদাশীল ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করবে।

বার্তাজগৎ২৪

Link copied!